বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। কিন্তু এর মধ্যেই বিশ্বকাপ সামনে রেখে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেল ইরান জাতীয় ফুটবল দল। গতকাল বুধবার রাতে তেহরানে ইনকিলাব চত্বরে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং সেখানে ইরানের বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সমর্থকদের উল্লাস ও উন্মাদনায় কোনো কমতি ছিল না।
অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়েরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমসূচক বক্তব্য দেন এবং দর্শকের অভিবাদনের জবাব দেন। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ইরান ফুটবল দলের নতুন জার্সিও উন্মোচন করা হয়। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহেদি তাজ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘গত চারটি বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে এটিই ছিল ফুটবলারদের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সেরা বিদায় সংবর্ধনা।’
উৎফুল্ল জনতার উদ্দেশে এফএফআইআরআই সভাপতি বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা জনগণের সঙ্গেই আছে। আর সাধারণ মানুষ দেশের মর্যাদা, সম্মান ও শক্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেখানে যেন ইরানের পতাকা সমুন্নত থাকে এবং সম্মান রক্ষা করা হয়।’
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে বিমান হামলা শুরু করার পর আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দলটির বিশ্বকাপযাত্রা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
দুই সপ্তাহ আগে সহ-আয়োজক দেশ কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল মেহেদি তাজের। কিন্তু ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাঁকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার পর ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কানাডার মতো যুক্তরাষ্ট্রও আইআরজিসিকে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী’ সংস্থা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কাউকে তাঁর দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।



